৪৮ ঘণ্টার নিখোঁজ রহস্যের অবসান!
1 min read
বাড়ি থেকে এক পোশাকে বাড়িয়ে পোশাক বদল দু’দিন বাইরে, দময়ন্তী বাড়ি ফিরেই ফিরেই স্বাভাবিক হাসি! দময়ন্তীকে ফিরে পেয়ে যা বললেন বাবা
ডিজিটালইন্ডিয়ান গোল্ডেনইন্ডিয়া ডেস্কহাওড়া : ১৮ জুলাই, ২০২৬প্রায় ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার অবসান। শনিবার ভোরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর গঙ্গার ঘাট থেকে উদ্ধার করা হল নিখোঁজ প্রতিভাবান রাইফেল শ্যুটার দময়ন্তী সেন-কে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ থাকার পর তাঁর নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবার, প্রতিবেশী এবং ক্রীড়ামহল।ঘটনার সূত্রপাত শনিবার ভোরে। এক প্রাতঃভ্রমণকারী ঘাটে এক কিশোরীকে একা বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাওড়া থানার পুলিশ এবং দময়ন্তীর পরিবারের সদস্যরা। সেখান থেকেই তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।”বাবা-মা কেঁদো না… আমি ভুল করেছি”মেয়েকে ফিরে পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন। তিনি বলেন,”দময়ন্তী বাড়ি ফিরেই আমাদের কাঁদতে দেখে বলল— ‘বাবা-মা কেঁদো না, আমি ভুল করেছি।’ দু’দিন বাইরে থাকার পরও ওর আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলছে, এমনকি কোচদের সঙ্গেও ফোনে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে।”তিনি আরও জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট সারাক্ষণ তাঁদের পাশে ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শুরু করে তদন্তের প্রতিটি অগ্রগতির খবর পরিবারকে জানানো হয়েছে।কোথায় ছিল দময়ন্তী?পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে বেরিয়ে দময়ন্তী প্রথমে শ্রীরামপুরে যায়। এরপর মাহেশের রথ এলাকায় পৌঁছে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। ওই তরুণী তাকে খাবার, নতুন পোশাক ও একটি টুপি দেন। তারপর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পায়ে হেঁটে আবার হাওড়ায় ফিরে আসে দময়ন্তী।পড়াশোনা ও অনুশীলনের চাপই কি কারণ?প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ক্রীড়া অনুশীলন, স্কুলের উপস্থিতি এবং আসন্ন বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপের মধ্যে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিল দময়ন্তী।বাবা বলেন,”খেলা নিয়ে ওর কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু পড়াশোনা, স্কুলের অ্যাটেনডেন্স এবং নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে হয়তো ও মানসিক চাপে পড়েছিল।”তদন্ত এখনও চলছেহাওড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, দময়ন্তী নিখোঁজ থাকার সময় কোথায় কোথায় ছিল, কার কার সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।DigitaLIndian GoldenIndia-এর পক্ষ থেকেদময়ন্তীর দ্রুত মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা কামনা করছি। একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি আবেদন— সন্তানদের পড়াশোনা ও ক্রীড়া জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিন।

